ঘরে তৈরী টক দই খাওয়ার উপকারিতা
ঘরে তৈরী টক দই খাওয়ার উপকারিতা বেশী তাই এটি সুপার ফুড নামে পরিচিত। এটি ছোট বড় সবার স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী।
মিষ্টি দই বা চিনি-রং ও ফ্লেভার মেশানো দইতে পুষ্টিগুণ থাকে না। এই আর্টিকেলে বড়দের এবং বাচ্চাদের কিভাবে টক দই খাওয়ানো যায় এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বাসায় দই তৈরি করা যায় সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
পোস্ট সূচিপত্রঃ ঘরে তৈরী টক দই খাওয়ার উপকারিতা
- ঘরে তৈরী টক দই খাওয়ার উপকারিতা
- টক দই বানানোর পদ্ধতি ও পুষ্টিগুণ
- টক দইয়ে দ্রুত সুফল পাওয়ার উপায়
- ১০ মিনিটে টক দই বানানোর নিয়ম
- টক দই খাওয়ার উপায় বা পদ্ধতি
- কোন বয়সে বাচ্চাদের টক দই খাওয়াবেন
- টক দই খেলে যে সমস্যা হতে পারে
- শেষ কথাঃঘরে তৈরী টক দই খাওয়ার উপকারিতা
ঘরে তৈরী টক দই খাওয়ার উপকারিতা
ঘরে তৈরী টক দই খাওয়ার উপকারিতা বা গুণের শেষ নেই। টক দইয়ে রয়েছে কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যেগুলি শরীরে থাকা কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। সেই সঙ্গে প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে তোলে। টক দই শরীরের টক্সিন জমতে দেয় না। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে টক দইয়ের জুড়ি মেলা কঠিন।
১। হজমে সহায়তা করেঃ
দই একটি দুর্দান্ত প্রোবায়োটিক উপাদান যাতে জীবন্ত ব্যাক্টেরিয়া থাকে। এই ভালো এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া গুলো অন্ত্রের কার্যকলাপকে উন্নত করতে, স্ফীত পাচনতন্ত্রকে প্রশমিত করতে এবং পেট খারাপের সমস্যা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
২।রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ
টক দই খেলে তা রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং অন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখে। অস্ট্রেলিয়ার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি দল দ্বারা পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতিদিন ২০০ গ্রাম দই খেলে তারও প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে সাহায্য করে।
আরও পড়ুনঃ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য টক দই
৩।সুন্দর এবং স্বাস্থ্যকর ত্বকঃ
দই খেলে তা আমাদের ত্বককে ময়েশ্চারাইজিং এর প্রভাব ফেলে এবং এটি শুষ্ক ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে নিরাময় করে। কিছু নির্দিষ্ট গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যার কারণে অনেকেই ব্রণের সমস্যায় ভোগেন। টক দই একটি অন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে যা স্বাস্থ্যকর ত্বক বজায় রাখে। টক দই তৈরি ফেসপ্যাকও একটি চমৎকার সৌন্দর্য উপাদান কারণ এতে ল্যাকটিক অ্যাসিড রয়েছে যা এক্সফোলিয়েটর কাজ করে এবং সমস্ত মৃত কোষ ও দাগ দূর করে।
৪।উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস করেঃ
আমেরিক্যান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন(AHA) উচ্চ রক্তচাপ গবেষণা বৈজ্ঞানিক সেশনে উপস্থাপিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা বেশি চর্বিহীন টক দই খেয়েছেন তাদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় ৩১% কম। পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম এর মত পুষ্টির পাশাপাশি দইয়ের বিশেষ প্রোটিনগুলো উচ্চ রক্তচাপ কমাতে এবং একটি স্বাস্থ্যকর হৃদপিণ্ডকে উন্নত করতে সাহায্য করে।
৫।হাড় মজবুত করেঃ
ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার অনুযায়ী এক কাপ টক দই(২৫০ গ্রাম) এর প্রায় ২৭৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। ক্যালসিয়ামের দৈনিক ডোজ শুধুমাত্র হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে না বরং হাড়কে শক্তিশালীও করে। এতে ক্যালোরি কম থাকে এবং তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে।
টক দই বানানোর পদ্ধতি ও পুষ্টিগুণ
টক দই বানাতে হলে প্রথমে দুধ ভালো করে ফটিয়ে ঠান্ডা করতে হবে। কুসুম গরম থাকা অবস্থায় এতে টক দইয়ের বীজ (পুরনো টক দই) বা ভিনেগার বা লেবুর রস মিশিয়ে ৮ থেকে ৯ ঘন্টা দই জমানোর জন্য ঢেকে দিতে হবে।
উপকরণঃ
১।তরল দুধঃ দেড় লিটার
২।গুঁড়ো দুধঃ আধা কাপ ( প্রয়োজন মত, ঘন করার জন্য)
৩। ভিনেগার বা লেবুর রসঃ ২ টেবিল চামচ (টক দই না থাকলে)
৪। টক দই(বীজ)ঃ৪ টেবিল চামচ (পুরনো টক দই)
পদ্ধতিঃ
১।দুধ গরম করাঃ প্রথমে দুধ একটি পাত্রে নিয়ে জ্বাল দিন। যদি গোড়া দুধ ব্যবহার করেন, তবে কুসুম গরম অবস্থায় গুড়া দুধের সাথে মিশিয়ে দিন।
২। দুধ ঠান্ডা করাঃ দুধ কিছুটা ঠান্ডা হলে কুসুম গরম থাকা অবস্থায় নামিয়ে নিন। দুধ যেন বেশি ঠান্ডা বা গরম না হয়,কুসুম গরম থাকাই ভালো।
৩। বীজ মিশানোঃ এই কুসুম গরম দুধে ৪ টেবিল চামচ টক দই (বীজ) ভালো করে মিশিয়ে নিন। যদি দইয়ের বীজ না থাকে তবে দুই টেবিল চামচ ভিনেগার বা লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন।
৪। জমানোঃ একটি ঢাকনা যুক্ত পাত্রে বা মাটির পাত্রে দই মিশ্রণটি ঢেলে আট থেকে নয় ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখুন।
৫। ফ্রিজে রাখাঃ দই জমে গেলে ফ্রিজে রাখুন।
পুষ্টিগুণঃ
প্রতি ১০০ গ্রাম টক দই এর পুষ্টি উপাদানঃ
১। ক্যালরিঃ ৮০ থেকে ৭০ কিলো-ক্যালরি।
২। প্রোটিনঃ ৪ থেকে ১১ গ্রাম (লো ফ্যাট ও গ্রিক দুইয়ে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে)।
৩। ফ্যাটঃ ৩ থেকে ৫ গ্রাম।
৪। কার্বোহাইড্রেটঃ ৪ থেকে ৫ গ্রাম
৫। ক্যালসিয়ামঃ ১০০ থেকে ১৫০ মিলিগ্রাম।
৬।ভিটামিনঃ ভিটামিন বি ২, ভিটামিন ১২ এবং ডি।
৭। অক্ষনি খনিজঃ ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম।
৮। প্রোবায়োটিকঃ এতে উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া (যেমন ল্যাকটোব্যাসিলাস থাকে যা হজম শক্তির উন্নতি ঘটায়।
টক দইয়ে দ্রুত সুফল পাওয়ার উপায়
১। সবজির রায়িতাঃ
টমেটো কুচি ,পেঁয়াজ কুচি, জিরা গুঁড়ো, কাঁচা মরিচ কুচি, চাট মসলা এবং বেশি করে
টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে বানিয়ে নিন রায়তা। ওজন কমাতে সাহায্য করবে এই রায়তা।
২। চিয়া বীজ দিয়ে দই খান
ওজন কমাতে চিয়া সিডে ঝুড়ি মেলা ভার। আজকাল অনেক ডায়েটিশিয়ানও ওজন কমাতে রোজ
চিয়া সিড খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, আয়রন,
পটাশিয়াম, লবন, ওমেগা থ্রি, ফ্যাটিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন সি রয়েছে। টক দইয়ের
সঙ্গে চিড়া সিড মিশিয়ে স্মুদি বা পোরিজে ব্যবহার করতে পারেন।স্মুদি তৈরি
করার জন্য নানারকম ফল, দু্ধ, দই আর সামান্য চিয়া সিড ব্লেন্ডার দিয়ে ভালোভাবে
পেস্ট করে নিন। কাঁচের গ্লাসের মধ্যে ঢেলে উপরে চিয়া সিড ছড়িয়ে পান করুন।
আরও পড়ুনঃওজন কমাতে চিয়া সিডের ব্যবহার
৩। দইয়ের সঙ্গে ফল
ফল ওজন কমানোর পাশাপাশি সামগ্রীক স্বাস্থ্য ভালো রাখে। আপনার প্রিয় ফল কেটে
দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। আপেল, কিউট, কলা, পেয়ারা, ডালিম, তরমুজ এর সঙ্গে দই
মিশিয়ে খেতে পারেন। ওজন কমানোর জন্য এই এই খাবার আদর্শ। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর
পরিমাণ ফাইবার ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ।
৪। দই ও গ্রানোলা
গ্রানোলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। দইয়ের সঙ্গে গ্রানোলার মিশ্রণ লো-ক্যালরিযুক্ত স্বাস্থ্যকর খাবার।সুগার-ফ্রি বা কম চিনে যুক্ত গ্রানোলা খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
৫। বাদামের সঙ্গে দই
দইয়ের সঙ্গে খেজুর, আখরোট,এবং অন্যান্য ড্রাই ফ্রুটস খেতে পারেন। ড্রাই-ফ্ররুটস
বাদামে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রোটিন এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা শরীরের
অতিরিক্ত ফ্যাট এবং ক্যালরি পোড়াতে কার্যকর।
৬। ওটসের সঙ্গে টক দই
ওজন কমাতে ওটসের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। আর যদি টক দইয়ের সঙ্গে
ওটস মিশিয়ে খাওয়া হয় তাহলে তো আরও উপকার পাবেন।
১০ মিনিটে টক দই বানানোর নিয়ম
১০ মিনিটের টক দই তৈরি করতে চাইলে গাঁজন প্রক্রিয়ায় জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া
যায় না, তাই বিকল্প উপায়ে এটি তৈরি করতে হবে, টক দই তৈরির এই পদ্ধতিটি মূলত
রান্নার কাজে দ্রুত ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।
উপকরণঃ
১। গুঁড়ো দুধঃ এক কাপ (ফুল ক্রিম হলে ভালো হয়)
২। গরম পানিঃ১/২ কাপ
৩। সাদা ভিনেগার বা লেবুর রসঃ দুই টেবিল চামচ
পদ্ধতিঃ
১। একটি বাটিতে গুঁড়ো দুধ এবং গরম পানি মিশিয়ে নিন।
২। দুধ এবং পানি খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিন, যেন কোন দলা না থাকে।
৩। মিশ্রণে দুই টেবিল চামচ ভিনেগার বা লেভের রস মিশিয়ে আরো ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড ভালো করে নাড়ুন।
৪। বাটিটি ১০ মিনিট পর্যন্ত ঢেকে রাখুন।
৫। ১০মিনিট পর ঢাকনা সরালে দেখবেন, মিশ্রণটি জমাট বেঁধে টক দই এর মত হয়ে গেছে।
এই দইটি আপনি রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন অথবা ফ্রিজে রেখে কয়েক দিন পর্যন্ত
খেতে পারেন। বোরহানি, লাচ্ছিও তৈরি করতে পারেন। আবার রূপচর্চার কাজেও ব্যবহার
করতে পারবেন।
টক দই খাওয়ার উপায় বা পদ্ধতি
ঘরে তৈরী টক দই খাওয়ার উপকারিতা পেতে হলে টক দই সাধারণত দুপুর বা সকালে
হালকা খাবারের সঙ্গে খাওয়া ভালো, তবে রাতের না খাওয়াই উত্তম। এটি হজম করে ভালো
এবং এতে থাকা প্রোবায়োটিক শরীরের জন্য উপকারী। টক দইয়ের সাথে চিনি মিশিয়ে না
খাওয়াই ভালো, তবে প্রয়োজনের বিট লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
খাওয়ার সময়ঃ
সকালেঃ হালকা রাস্তার সাথে খেতে পারেন, যা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
দুপুরেঃ দুপুর খাবার পর খেলে হজম ভালো হয়, কারণ এতে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া হজমে
সহায়তা করে।
রাত্রেঃ রাতে টক দই এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এটি কফ তৈরি করতে পারে এবং হজমের
সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
খাওয়ার পদ্ধতিঃ
১।পরিমাণঃ প্রাপ্ত বয়স্করা প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম এবং অপ্রাপ্ত বয়স্করা ১০০ গ্রাম খেতে পারেন।
২।মিষ্টি ছাড়াঃ টক দইয়ের সাথে চিনি বা মিষ্টি জাতীয় কিছু মিশাবেন না।
৩।অন্যান্যঃ প্রয়োজনে সামান্য বিট লবণ মিশিয়ে খেতে পারেন।
৪।দুধের বিকল্পঃ, যারা দুধ খেতে পারেন না তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প হতে
পারে
টক দই যারা খাবেন নাঃ
১।যাদের জয়েন্টের ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা আছে তাদের টক দই এড়িয়ে চলা উচিত।
২।অতিরিক্ত টক বা পুরনো দই খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে তাই তাজা দই খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
কোন বয়সে বাচ্চাদের টক দই খাওয়াবেন
দুধ থেকে তৈরি খাবারে এলার্জি হতে পারে। তবে এটা যে সবার হবে তা কিন্তু নয়। এক সময় ডাক্তাররা এসব খাবার দেরিতে বা বড় হলে শুরু করতে বলতেন। এখনো বাংলাদেশের অনেক ডাক্তার আগের নিয়ম মেনে চলেন।কিন্তু বর্তমানে আমেরিকান ডাক্তাররা উল্টো কথা বলেন। এ এ পি এর, নির্দেশনা হল দুধের তৈরি খাবার একদম কম বয়সে খাওয়ালে ভালো। দুধ থেকে তৈরি খাবা।(যেমন দই) দেরিতে খাওয়ানো শুরু করলে শিশুর এলার্জি হওয়া প্রবণতা আরো বেড়ে যায়।বিদেশে নিয়মিত চেক আপের সময় কোনো ডাক্তার ৬ মাসে কেউবা আবার ৭ মাসে বাচ্চাকে দই খাওয়ানোর শুরু করতে বলে।
আপনি যদি নিয়মিত চেকআপ না করে থাকেন এবং আপনার বাচ্চার সলিড খাওয়া শুরু করে থাকেন তাহলে ৬ মাসেই টক দই খাওয়ানো শুরু করতে পারেন।শিশু বিশেষজ্ঞ যখন দুই খাওয়ানোর অনুমতি দেন তখন দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব দই খাওয়ানোর পরিকল্পনা করা উচিত। তবে ততদিনে বাঁচার সলিড খাবার অভ্যাস থাকতে হবে। যেকোনো দুধের খাবার বিশেষত দই খাওয়ানোর পরিকল্পনা করে থাকলে প্রথমবার তা ঘরে খাওয়ানোর ভালো। তাতে শিশুর উপর নজর রাখা সহজ হবে।দই খাওয়ার এক বা দুই ঘন্টার মধ্যে এলার্জি প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখা যাবে।
টক দই খেলে যে সমস্যা হতে পারে
টক দইয়ের সব উপকারিতা পেতে হলে এটি খাওয়ার সময়ও কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা
জরুরি। টক দই খাওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সেগুলি মাথায় না রাখলে সমস্যা হতে
পা...
১। রাতে দই খাবেন না
অনেকেই রাতে খাবার পাতে দই রাখেন। পুষ্টিবিদরা মনে করেন রাতে টক দই এড়িয়ে চলায়
ভালো। এর ফলে শরীরে মিউকাসের জন্ম হয়। তার ফলে বিভিন্ন সংক্রমণের মূলে থাকে এ
ধরনের মিউকাস। এই সংক্রমণের ফলে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, নাকের মধ্যে
অস্বস্তি ও আর্থরাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে
২। শুধু টক দই খাবেন না
ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই টক দইয়ের সঙ্গে চিনি খান না। পুষ্টিবিদদের মতে,
চিনি না খাওয়ার সিদ্ধান্ত একেবারে ঠিক কিন্তু দই খাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মে খানিক
বদল আনলে ভালো হয়, শুধু টক দই খেলে অম্বল হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই চিনি না
খেতে চাইলেও মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।এ ছাড়াও অল্প লবন,গোলুরিচ গুঁড়ো,দারচিনিও
মিশিয়ে নিতে পারেন
৩।প্রতিদিন না খাওয়াই ভালো
টক দই নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যকর। তবে পুষ্টিবিদদের মতে,প্রতিদিন টক দই না খাওয়াই
ভালো একদিন অন্তর টক দই খাওয়া জরুরি। তাতে স্বাস্থ্য ভালো থাকে।প্রতিদিন দই খেলে
মিউকাস সংক্রমণের আশঙ্কা কমে।
শেষ কথাঃঘরে তৈরী টক দই খাওয়ার উপকারিতা
ঘরে তৈরী টক দই খাওয়ার উপকারিতা বিষয়ে আর্টিকেলটি আপনি আশা করি সম্পূর্ণ পাঠ করেছেন। ঘরে তৈরি টক দই একটি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার যা শরীরের বিভিন্ন উপকার করে। টক দই নিয়মিত খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, হাড় শক্তিশালী হয়, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দোকানে তৈরী রাসায়নিক পদার্থ মেশানো টক দই গ্রহণ না করে, স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরে তৈরী এই টক দই নিয়মিত গ্রহণ করা সামগ্রীক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত উপকারী।
সব মিলিয়ে বলা যায় যে ঘরে তৈরি একটি প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যকর খাবার যা নিয়মিত খাদ্য তালিকা অন্তর্ভুক্ত করলে আপনি সুস্থ জীবন যাপন করতে পারবেন। আমি আশা করি উপরে আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হবেন এবং পরবর্তী আর্টিকেলটিকেল পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকবেন।
.webp)


ইয়োলোপাইসনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url