শীতকালে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন
শীতকালে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্নে আপনি অবহেলা করার কারণে ত্বকের অনেক সমস্যা যেমন শুষ্কতা,জ্বালা,ঠোঁট ফাটা এবং আরো বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে।
শীতকালীন ত্বকের সমস্যা, প্রাথমিকভাবে আর্দ্রতার অভাবের কারণ্,ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক হওয়ার কারণে ফ্ল্যাকি ও চুলকানির মত বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। আপনি নিচের আর্টিকেলটি পড়লে শীতকালীন বিভিন্ন রোগ থেকে পরিত্রাণের উপায় এবং ত্বকের যত্ন নিতে পারবেন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ শীতকালে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন
- শীতকালে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন
- শুষ্ক ত্বকের বিভিন্ন প্রকারভেদ
- ত্বক শুষ্ক হয়েছে কিভাবে বুঝবেন
- শুষ্ক ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার
- ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের যত্নে হলুদের ব্যবহার
- ঘরের তৈরি উপটান ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে
- শীতে ছোট বাচ্চাদের হাত-পা রুক্ষ হলে যা করবেন
- শেষ কথাঃশীতকালে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন
শীতকালে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন
শীতকালে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন করার জন্য আপনি সূর্যমুখী বিজের তেল কিংবা নারিকেল তেল ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় খুবই ফলপ্রসূ হয়। দুটি উপাদানই সহজলভ্য যা ত্বকে হালকাভাবে মিশে যায় এবং আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে সক্ষম হয়। রাত্রে ঘুমানোর আগে কয়েক ফোটা নারকেল তেল মেখে ঘুমালে সকালে ত্বক তরতাজা হয়ে থাকে এবংকোমন ও স্বচ্ছ থাকে। খুব গরম পানি নয় বরং হালকা উষ্ণ পানিতে গোসল করে তারপর টাওয়েল দিয়ে ত্বক হালকা আলতো করে মুছে ভেজা অবস্থাতেই ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন, এতে পানির আর্দ্রতা ত্বকে আটকে থাকে।
আরও পড়ুনঃ শীতকালে ত্বক কালো হয় কেন
আপনার যদি হাতে সময় কম থাকে তবে ঘরোয়া কিছু উপায় বেছে নিতে পারেন। মধুর প্রাকৃতিক গুণ ত্বকের শুষ্কতাকে মোলায়েম করে তোলে। আর আলোভেরা জেল চুলকানি বা জ্বালা ভাব কমায়। ব্যস্ত দিনের শেষে এগুলো ত্বকের জন্য একটি সুষম উপাদান হিসেবে পরিগণিত হয়। ত্বকের যত্ন শুধু বাহির থেকে নয় ভিতর থেকে নেওয়া প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার, সবুজ শাকসবজি ও মাছ ত্বকের ভিতর থেকে পুষ্ট করে তোলে। দুধে থাকা ফসফোলিপিড ত্বকের প্রাকৃতিক প্রটেকশন লেয়ারকে সতেজ রাখে।
শুষ্ক ত্বকের বিভিন্ন প্রকারভেদ
আপনি আপনার ত্বকের ধরন জানুন এবং সেই অনুযায়ী ত্বকের যত্ন করুন। নিম্নলিখিত দুটি
পদ্ধতি দ্বারা আপনি আপনার ত্বকের ধরন সনাক্ত করতে পারেন যেমনঃ-
১। অপেক্ষার পদ্ধতিঃ
আপনি একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন এবং তারপরে কিছু না লাগিয়ে ২৫
থেকে ৩০ মিনিটের পরে ত্বক কেমন হয় তা জানার জন্য অপেক্ষা করুন। টাইট এবং শুষ্ক
হলে বুঝবেন ত্বকটি শুষ্ক। আর যদি ত্বক অতিরিক্ত চকচকে থাকে এবং এটি আঠালো অনুভব
হয় তবে এটি তৈলাক্ত ত্বক হবে। যদি এমন কিছু অংশ থাকে যা তৈলাক্ত এবং শুষ্ক উভয়ই
হয় তাহলে তা হবে কম্বিনেশন স্কিন। এমন কি যদি কেউ ত্বকে জ্বালা এবং
সংবেদনশীলতা অনুভব করে তবে সম্ভবত সংবেদনশীল ত্বক।
২। ব্লটিং পদ্ধতিঃ
আপনি আপনার মুখের বিভিন্ন অংশে একটি পরিষ্কার ব্লটিং পেপার রাখুন এবং তারপরে আলোর বিপরীতে এটিকে তেলের পরিমাণ জানার চেষ্টা করুন। যদি এতে অতিরিক্ত তেল থাকে তবে ত্বকটি তৈলাক্ত ত্বক হিসাবে বিবেচনা করতে পারেন। আর যদি এটি খুব শুষ্ক হয় বা তেলের অভাব হয় তবে শুষ্ক মনে মনে করা হয়।। ব্লটিং পেপার যদি টি-জোনের বিপরীতে ড্যাব করা এলাকার কিছু অংশে তৈলাক্ত হয় এবং অন্য শুষ্ক হয়, তবে এটি সংমিশ্রণ ত্বক হতে পারে। ফলাফলের জন্য এই পরীক্ষাটি দুপুর বা সন্ধ্যায় করা সবচেয়ে ভালো।
শীতে ভালো তো রাখার জন্য তোকে ধরুন সম্পর্কে বুঝা খুবই জরুরী। ঠান্ডা আবহাওয়ায় প্রতিটি ত্বকের ধরনের জন্য সাধারণ প্রকার এবং শীতকালীন ত্বকের সমস্যাগুলো নিচে বর্ণনা করা হলোঃ
১। শুষ্ক ত্বকঃ
বৈশিষ্ট্যঃ শুষ্ক, ফ্লাকি এবং চুলকানি হতে পারে।
শীতকালীন ত্বকের সমস্যাঃ এটি আরো শুষ্ক, সংবেদনশীল হয়ে ওঠে এবং একজিমা
ব্রেক আউট হতে পারে।
২। তৈলাক্ত ত্বকঃ
বৈশিষ্ট্যঃ তৈলাক্ত এবং শুষ্ক ত্বক অঞ্চলের সংমিশ্রণ প্রায়শই একটি তৈলাক্ত
টি-জোন থাকে, কপাল, কান,চিবুক এবং শুষ্ক গাল।
শীতে ত্বকের সমস্যাঃ শুষ্ক গাল এবং টিজোনে সম্ভাব্য তৈলাক্ততা।
৩। সংবেদনশীল ত্বকঃ
বৈশিষ্ট্যঃ লাল ভাব, জালা বা ত্বকের সংবেদনশীলতা।
শীতে ত্বকের সমস্যাঃ ঠান্ডায় বেশি সংবেদনশীল এবং কোমল বোধ হয়।
ত্বক শুষ্ক হয়েছে কিভাবে বুঝবেন
ত্বক শুষ্ক হওয়ার প্রধান কারণ হলো গোসল করার পর বা মুখ ধোয়ার পর যদি ত্বকে
অতিরিক্ত টানটান ভাব তৈরি হয়।অনেকের আবার এ সময় ত্বকে অমুসৃণতা ও চুলকানির ভাব
তৈরি হয়। এই সময় আপনাকে মনে রাখতে হবে, শুষ্ক ত্বকে বলিরেখার সমস্যা দেখা
যায়।তাই এ সময় ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
শুষ্ক ত্বকের জন্য যা করবেনঃ-
শুষ্ক ত্বকে বেশি স্ক্রবিংবেশী না করাই ভালো। দরকার হলে মৌসুর ডাল বেটে ঘরেই ক্লিনজার তৈরি করে নিতে পা্রেন।এটি মুখে সাথে সাথে সারা গায়ে লাগান। ত্বকের মরা কোষ দূর করতে এটি খুবই কার্যকরী। মসুর ডাল বাটার সাথে কাঁচা দুধ মিশিয়ে নিতে পারেন।
২। পাকা কলা চটকে ফেসপ্যাক বানাতে পারেন। এটি শুষ্ক ত্বককে আদ্রতা এনে দেয়।
৩। মধু দিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন শীতের সময়।
৪। দিনে দুইবার ক্লিনজিং, টোনিং ময়েশ্চারাইজিং করুন। আপনার তো বেশি শুকনো হলে অয়েলবেস ক্লিনজার এবং ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
৫। শীতে বেশি পরিমাণ পানি পান করুন। শীতে শুধু ত্বক শুষ্ক নয়, শুষ্ক পরিবেশের কারণে গোটা শীতে শরীরে আর্দ্রতার অভাব দেখা দেয়। তাই শীতে পানিতে তেষ্টা না পেলেও পানি পান করুন সময় করে। দিনে চার থেকে পাঁচ লিটার পানি পান করতে পারেন।
শুষ্ক ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার
১। ত্বকের যত্নে কলা, মধু ও টমেটোঃ
ত্বকের দারুন কাজ করে কলা, মধু ও টমেটো। শীতকালে ত্বকের যত্নে এই উপাদানগুলো
ব্যবহার করা যায়। কলা পেস্ট করুন, তাতে সামান্য মধু দিয়ে ত্বকে লাগান। শুকিয়ে
গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। এছাড়া টমেটোর
রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে একই নিয়মে লাগালেও ত্বকের আদ্রতা বাড়বে এবং উজ্জ্বল
দেখাবে।
২। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় দুধের ক্রিম ও টক দই
সব ধরনের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কাজ করে মধু ও টক দই। ব্যবহার প্রণালীও খুব সহজ। দুধে ক্রিম অথবা টক দইয়ে কয়েক ফোটা গোলাপ জল মেশান। চামচ দিয়ে ভালো করে নেড়ে নিন। মিশ্রণটি ব্যবহারের আগে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট মিশ্রণটি মুখের ত্বকে রেখে ধুয়ে ফেলন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে পাবেন।.
আরও পড়ুনঃ শীতকালে মুখের চামড়া উঠে কেন
৩। গাজরের পেস্টে ফিরবে ত্বকের কমলতাঃ
শীতের আর্দ্রতাই ত্বক তার কোমলতা হারিয়ে ফেলে। এ সময় কাজে আসে গাজর। ব্যবহার প্রনালী খুবই সহজ। কচি গাজর পেস্ট করে তাতে সামান্য চন্দন মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১০ মিনিট পর্যন্ত। সময় শেষ হলে হালকা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের কমলতা ফিরে পাবেন।.
৪। ত্বকের যত্নে শসার ব্যবহারঃ
আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত তাহলে শশা রস ব্যবহার করতে পারেন। শশার রসে মুলতানি মাটি
এবং চন্দনের গোড়া দিন। চামচ দিয়ে ভালোভাবে মিশে নিন।পেস্টটি মুখ, হাত ও পায়ের
ত্বকে লাগানো। শুকিয়ে যাওয়ার দশ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলন। ত্বকের
তৈলাক্ততা কেটে উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।
৫। ত্বকের পোড়া ভাব কাটাবে পেঁপেঃ
আপনি পাকা পেঁপে সংগ্রহ করুন। দুই টেবিল চামচ পেঁপে একটি বাটিতে নিয়ে পেস্ট তৈরি
করুন। তৈরি পেস্টটি ১৫ মিনিট থেকে ২০ মিনিট মুখের ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। সময় শেষ
হলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দিনে দুবার বা এক সপ্তাহ এভাবে পেঁপে ব্যবহার করলে
রোদে পোড়া দাগ দূর হবে।
৬। নারকেলের তেলেও উজ্জ্বলতা বাড়ায়ঃ
শীতকালে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট হলে নারকেল তেল ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে
সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সেজন্য মুখে নারকেল তেল লাগান। কুসুম গরম পানিতে সুতির
রুমাল ভিজিয়ে নিংড়ে নিন। রুমালটা মুখের উপরে দিয়ে রাখুন।১০ মিনিট পর মুখটা
ধুয়ে গোলাপ জল লাগিয়ে দিন।সব ধরনের ত্বকে উজ্জ্বলতা ফেরাতে নারকেল তেল খুব
সুন্দর কাজ করে।
ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের যত্নে হলুদের ব্যবহার
১। হলুদ ও দুধের মিশ্রণ তৈরিঃ
এক চা চামচ হলুদ গুঁড়ো দুই চা চামচ কাঁচা দুধে ভালোভাবে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নেব। এবার এই মিশ্রণটি সমস্ত ঘাড় এবং মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত রেখে দিব। শুকিয়ে গেলে তা ঠান্ডা পানি দিয়ে আলতো করে ঘষে ঘষে ধুয়ে ফেলব। এভাবে মিশ্রণটি আপনার ত্বকে উজ্জ্বল ও দাগ হীন করতে সাহায্য করবে।
২। লেবুর রস ও মধুর ব্যবহারঃ
লেবুর রস এবং মধু ত্বকের যত্নে অনেক উপকারী। দুই চামচ হলুদ গুঁড়া এক চা চামচ লেবুর রস এবং এক চা চামচ মধু মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এই মিশ্রণটি আপনি মুখ ও ঘাড়ে ভালো করে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত রেখে দিবেন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। লেবুর রস ব্লিচের কাজ করে এবং মধু দাগ দূর করতে সাহায্য করে।
৩। হলুদ এবং আঙ্গুর এর ব্যবহারঃ
একটি পাত্রে দুই টেবিল চামচ আঙ্গুর ম্যাশড করে নিব। তারপর তাতে আধা চা চামচ হলুদ
গুঁড়া এবং দুই থেকে তিন চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে ঘন করে একটি মিশ্রণ তৈরি করব।
তারপর মিশ্রণটির মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে২০ মিনিট রেখে দিব। এরপর হালকা গরম পানি
দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।এভাবে প্রতিদিন ব্যবহার করলে আপনার ত্বক উজ্জ্বল এবং দাগ
হীন হবে।
৪। টক দই এবং হলুদের ব্যবহারঃ
একটি পাত্রে তিন টেবিল চামচ ময়দার সাথে দুই টেবিল চামচ টক দই, এক চা চামচ লেবুর
রস এবং এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া এবং এক চা চামচ মধু মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করি।
এবার এই মিশ্রণটি শরীরের যে স্থানগুলো ট্যানড লাগছে সেই স্থানগুলোতে লাগিয়ে দিই।
প্রায় বিশ মিনিটের জন্য মিশ্রণটি লাগিয়ে রাখতে হবে তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে
ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মিশ্রণটির ব্যবহারে আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করার পাশাপাশি
আপনার ত্বতকে টানটান দেখাবো।
ঘরের তৈরি উপটান ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে
উপটান একটি আয়ুর্বেদিক মিশ্রণ যা তৈরি হয় বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান থেকে। এটি
বিয়ের কনেদের বিবাহ পূর্ব রূপচর্চার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে অতি প্রাচীনকাল
থেকে। সেই থেকে এটি ভারতীয় উপমহাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী রূপচর্চা সামগ্রী। ধারণা
করা হয় যে,উপটান পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন রূপচর্চা সামগ্রী যা প্রাচীন বৈদ্যরা
ব্যবহার করার পরামর্শ দিতেন। আজকের পৃথিবীতে যেখানে দূষণ আর ভেজালের হাত থেকে
কারোই রেহাই নেই তখন আমাদের ত্বকের উপটানের মতো একটি প্রাকৃতিক সমাধানের
প্রয়োজন। উপটান বাড়িতে বানানো জন্য প্রস্তুত প্রণালী নিম্নে প্রদান করা
হলোঃ-
প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
১। এক চা চামচ বেসন
২। এক চা চামচ চন্দনের গুঁড়ো
৩। ১/২ চা চামচ মসুর ডাল
৪। এক চা চামচ লেবুর রস
৫। ১/৪ চা চামচ হলুদের গুঁড়ো
৬। পরিমাণ মতো দুধ বা গোলাপ জল।
যেভাবে তৈরি করবেনঃ
একটি পাত্রে বেসন, চন্দনের গুঁড়ো, মসুর ডাল, হলুদের গুঁড়ো, লেবুর রস মিশিয়ে নিন।
এর সাথে পরিমাণ মতো দুধ বা গোলাপ জল মেশান। খুব বেশি পরিমাণ দুধ বা গোলাপ জল
মেশাবেন না, এতে উপটান পাতলা হয়ে যাবে। এই মিশ্রণটি মুখ ও ঘাড়ে ব্যবহার করুন।
১০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
কার্যকারিতাঃ
এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। বেসন ও হলুদ ত্বকের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য
করে। মসুর ডাল ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর করে দেয়, যা ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল
করে। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করতে পারেনএই উপটান।
শীতে ছোট বাচ্চাদের হাত-পা রুক্ষ হলে যা করবেন
শীতকালে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্নে আপনার বাচ্চার ত্বক ভালো রাখতে গোসলের পর
অ্যালোভেরা, দুধ এবং মধু মিশিয়ে মাখাতে পারেন। এটিও ময়েশ্চারাইজারের মত কাজ
করবে। তবে আগে থেকে নেবেন অ্যালোভেরাতে ছোট বাচ্চাদের এলার্জি হচ্ছে কিনা। গোসলের
পর পায়ে খানিকটা অলিভঅয়েল মাখতে পারেন।তেল পায়ের ত্বক শুষ্ক হতে দেয় না।
মধুর প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজিং ক্ষমতা ও এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে নরম রাখতে সাহায্য করে। অলিভ ওয়েলে থাকা ভিটামিন ই ও ত্বকের ক্ষতি হতে দেয় না। ত্বককে নতুনের মত করে তোলে। কয়েক ফোঁটা মধু এবং সমপরিমাণ অলিভ ওয়েল এক সঙ্গে মিশিয়ে ভালোভাবে শিশুর হাত ও পায়ে মালিশ করে দিন।এতে আপনার বাচ্চার ত্বক নরম ও মসৃণ থাকবে।
শেষ কথাঃশীতকালে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন
শীতকালে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি আপনি ভালো করেই পড়েছেন। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি বুঝতে পেরেছেন যে কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিলে আপনার ত্বক মসৃণ এবং নরম থাকবে। এই আর্টিকালে যে উপাদানগুলো ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে তার সবগুলোই প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত হয়। এটি ব্যবহারে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হবে না। তাই আপনি নিঃসন্দেহে ব্যবহার করতে পারেন। আমার এই আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনি উপকৃত হন তবে আমি বিশেষভাবে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।আরও স্বাস্থ বিষয়ে জানতে পেজটি সাবস্ক্রাইব করে রাখবেন কারণ স্বাস্থ্য বিষয়ে নিয়মিত আমি আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি



ইয়োলোপাইসনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url