দেশজ ফল হিসাবে চালতার ঔষধি গুনাগুন

দেশজ ফল হিসাবে চালতার ঔষধি গুনাগুন বিষয়ে আমাদের অনেক কিছুই জানার বাইরে আছে। যা আমরা জানতে চেষ্টা করতে পারি। প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত যেকোনো ফল যা কীটনাশক ছাড়াই উৎপাদিত হয়। এই ফলগুলি আমাদের শরীরকে সুস্থ, সুন্দর এবং নিরোগ দেহের অধিকারী করে তোলে।

দেশজ-ফল-হিসাবে-চালতার-ঔষধি-গুনাগুন

 তাই চালতা ফল সম্পর্কে আমি আমার আর্টিক্যালে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করছি। বর্তমান সময়ে ডাক্তার এবং ডায়াটিশিয়ানরা প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত ফল, বীজ ও অন্যান্য ঔষধি জাতীয় জড়ি-ভূতির উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই আমরা প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত চালতার গুণাগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

পোষ্ট সূচিপত্রঃ দেশজ ফল হিসাবে চালতার ঔষধি গুনাগুন

দেশজ ফল হিসাবে চালতার ঔষধি গুনাগুন 

দেশজ ফল হিসাবে চালতার ঔষধি গুনাগুন বিষয়ে জানতে হলে আগে জানতে হবে চালতার বৈজ্ঞানিক নাম Dillenia indica ইংরেজি নাম Elephant Apple । চালতা এক প্রকার ভারতবর্ষীয় উদ্ভিদ। চালতা দিয়ে চাটনি ও আচার জাতীয় বিভিন্ন মুখরুচকর খাবার তৈরি করা হয়। গাছটি দেখতে খুব সুন্দর বলে কখনো কখনো উদ্যানে বা বাগানে রোপন করা হয়। চালতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জম্নে। এটি বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা,চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশে জন্মে।

চালতার গাছ মাঝারি আকারের চিরহরিৎ বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। চালতার গাছ উচ্চতায় ১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। গাছের গায়ে লালচে রঙের চকচকে বাকল থাকে। পাতার কিনারা খাঁজ কাটা, শিরা  উচ্চ সমান্তরাল। চালতার সাদা রঙের ফুল দেখতে সুন্দর ও সুগন্ধযুক্ত। ফুলের ব্যাস১৫ থেকে ১৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফুলের পাঁচটি মোটা পাঁপড়ি বেষ্টিত কেন্দ্রে প্রচুর হলুদ পুংকেশর থাকে। বৃত্তগুলো সেসবপাঁপড়িকে আঁকড়ে ঘিরে থাকে। বছরে মে ও  জুন মাসে ফুল ফোটে। বর্ষার পর ফল পাকে, শীতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়। পাকা ফলের বীজ থেকে চারা তৈরি করা হয়।

চালতায় যে সব বিভিন্ন পুষ্টিগুণ থাকে

চালতা বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করেন ভেষজ কবিরাজরা। মুর্ছা যাওয়া, পেটে বায়ু জমা, শুক্রাণু স্বল্পতা, প্রসূতির বুকের দুধের স্বল্পতা, মাথার চুলের অল্পতা, সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা এবং খাদ্যে বিষক্রিয়া ইত্যাদি রোগে চালতা ব্যবহার করেন কবিরাজরা। পেটে বায়ু উৎপন্ন হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পেট পরিষ্কার না হলে পেটে বায়ু উৎপন্ন হয়ে থাকে। এই অবস্থায় চালতার রস দুপুরে ও রাত্রে দুই চামচ করে খেলে পেটে বায়ু উৎপন্ন হয় না এবং পরিষ্কার থাকে। অনেকের শুক্র খুব অল্প তৈরি হয়।

আরও পড়ুন ঃ চালতার বাজার মূল্য

ফলে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা থাকে না। এ অবস্থায় পাকা চালতার আঠালো রস সকালে খালি পেটে ও রাত্রে ২ চামচ দুই সপ্তাহ খেলে উপকার পাওয়া যায়। প্রসূতি মায়ের বুকের দুধ কম হলে চালতা বেটে সকালে খালি পেটে এক চামচ রস ও বিকেলে এক চামচ রস খেলে দুধ আসে। তবে যাদের অজীর্ণ রোগ বা পেটের সমস্যা আছে তারা খেতে পারবেন না। কবিরাজদের পরামর্শ মোতাবেক চালতা প্রয়োগ করলে উপকার পাওয়া যায় তবে নিজে নিজে কবিরাজি করলে উপকারের পরিবর্তে উল্টো ফল হতে পারে।

প্রতি ১০০ গ্রাম চালতায় প্রায় ৫৯ কিলোক্যালরি শক্তি, প্রায় ২ - ২.৫% ভ্যাট এবং কিছু পরিমাণে প্রোটিন ও শর্করা থাকে। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ, ভিটামিন, বিটা ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস।

প্রতি ১০০ গ্রাম চালতার পুষ্টিমান

  • ঊপাদান                            পরিমাণ
  • ক্যালরি                              ৫৯ কিলোক্যালরি
  • প্রোটিন                              ৮%
  • ফ্যাট                                  ২  - ২.৫%
  • ফাইবার                              ২.১ - ২.৫%
  • অ্যাাশ                                ৩.৫৪% 
  • ক্যালসিয়াম                       ১৬ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস                          ২৬ মিলিগ্রাম
  • অ্যাাসকরবিক এসিড        ৪ মিলিগ্রাম

রোগ নিরাময়ে চালতার ঔষধি গুণ

দেশজ ফল হিসেবে চালতার ঔষধি গুনাগুন অনেক রয়েছে. এই গুণাগুণ গুলির মধ্যে যে সমস্ত আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন পড়ে সেগুলোর উল্লেখযোগ্য বিষয় নিম্নরূপ।
১।লিভার এবং হার্টের টনিক

চালতা ফলের অনেক উপকারিতা রয়েছে এর মধ্যে চালতাকে লিভার এবং হার্টের টনিক হিসাবে মনে করা হয়। চালতায় ক্যালসিয়াম ও শর্করা বিদ্যমান।

আরও পড়ুন ঃ ডায়েটিশিয়ান-এর জন্য খোঁজ করুন.

২। কোলেস্টরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের

চালতা ক্ষতিকারক কোলস্টরেল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কুসুম কুসুম গরম পানিতে চালতার রস আর একটু চিনি মিশিয়ে খেয়ে নিন। এটি রক্ত পরিষ্কারক হিসাবে ও খুব ভালো কাজ করে। চালতা গাছের রস বা পাঠায় ডায়াবেটিস রোগ নিরাময়ের উপাদান রয়েছে।

৩।জ্বর ঠান্ডা ও কাশি নিরাময় করে

গলা ব্যথা, জ্বর, বুকে কফ জমা কিংবা সর্দি প্রতিরোধে চালতার আছে এক অনন্য গুণ। চালতা গাছের ছাল গুড়া করে খেলে কফ ও সর্দি ভালো হয়।

৪।রক্তের সংবহন ঠিক রাখে

দেশজ-ফল-হিসাবে-চালতার-ঔষধি-গুনাগুন

আপনার দেহের রক্তের সংবহন ঠিক রাখতে চালতা হতে পারে এক দারুন উপকারি ফল।

৫।বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

চালতা হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।, ডায়রিয়া ও  বদহজম কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে চালতা খেলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। যাদের পাকস্থলীতে আলসার আছে তাদের জন্য চলতা হতে পারে এক অনন্য দাওয়াই। আপনার ডায়রিয়া ও বদহজম হলে  চালটা খেলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

৬।বাতের ব্যথায়

আপনি বাতের ব্যথার জন্য কচি চালতার রস পানির সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন। এছাড়া আপনার হাড়ের যে কোন সংযোগস্থলে ব্যাথা কমাতে এটি খেতে পারেন।

৭।জরায়ু ও স্তনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

চালতা মহিলাদের জন্য একটি উপকারী ফল। কেউ কেউ মনে করেন চালতা গর্ভপাত পরবর্তী সমস্যাগুলো প্রতিরোধে সহায়তা করে। এমনকি এটি জরায়ু ও স্তনের ক্যান্সার পর্যন্ত প্রতিরোধ করে।

৮।কিডনি ভালো রাখে

রক্ত পরিশোধন ও ডিটক্সিফিকেশনে চালতা সহায়তা করে। এছাড়া যাদের কিডনিতে সমস্যা আছে, তারা নিয়মিত চালতা খেলে উপকার পাবে। এছাড়াও স্কার্ভি, অন্ত্রে কৃমি, কানের যেকোনো সমস্যায় কিংবা পাকস্থলীতে আলসার সমস্যার সমাধানে চালতা বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

৯।ত্বকের যন্ত্রণা প্রমোশিত করে

চালতা প্রাকৃতিক এসিড যেমন - অক্সালিকম,ট্যানিক, ম্যালিক এবং সাইট্রিক এসিডে সমৃদ্ধ। চালতা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও ভিটামিন-এ, বি ও সি এর ভালো উৎস। চালতার পাতার  তেল ত্বকের সংকোচনে এবং এর আঠা ত্বকের ক্ষত জনিত যন্ত্রণা কমাতে ব্যবহৃত হয়।

চালতা খাওয়ার নিয়ম বা প্রস্তত প্রণালী

দেশজ ফল হিসাবে চালতার ঔষধি গুনাগুন হিসাবে চালতা সরাসরি ফল হিসেবে খাওয়ার চেয়ে প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন উপায়ে খাওয়া হয়, কারণ এটি খুব টক হয়। চালতা খাওয়ার কিছু প্রচলিত ও জনপ্রিয় নিয়ম নিচে দেওয়া হল।

১। আচার

সালটার সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবহার হলো আচার তৈরি করা। চালতার টক, ঝাল,মিষ্টি আচার খুব সুস্বাদু হয়।

উপকরণ ঃ চালতা, চিনি, সরিষার তাল,পাঁচফোড়ন,শুকনা মরিচ, হলুদ, লবণ।

প্রস্তুত প্রণালীঃ

১।প্রথমে চালতাকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে টুকরো টুকরো করে কেটে নিন।
২।সিদ্ধ করে নরম করে নিন।
৩।মসলা ও তেল দিয়ে কষিয়ে নিন।
৪।সবশেষে চালতা ও চিনি মিশিয়ে আচার তৈরি করুন।
দেশজ-ফল-হিসাবে-চালতার-ঔষধি-গুনাগুন

২। চাটনি

চালতার টক, ঝালও মিষ্টি স্বাদের চাটনি বানানোর বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিম্নরূপঃ-

উপকরণঃ চালতা, সরিষার তেল,পাঁচফোড়ন,হলুদ, লবণ, চিন্‌ নারকেল কোরা।

প্রস্তুত প্রণালীঃ

     ১।চালতা টুকরো টুকরো করে কেটে নিন।

     ২।হলুদ ও লবণ দিয়ে কষিয়ে পরিমাণ মতো পানি দিয়ে ফুটিয়ে নিন।

      ৩।নামানোর আগে নারকেল করা ও চিনি মিশিয়ে পরিবেশন করুন।

৩। টক ডাল

গরম কালে ডালের সঙ্গে চালতার টক অনেকেই পছন্দ করে। এটি হজম শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।

উপকরণঃ মসুর বা মটর ডাল, চালতা, পাঁচফোড়ন,শুকনা মরিচ, হলুদ ও লবণ।

প্রস্তুত প্রণালী ঃ

       ১।প্রথমে ডাল ও চালতা একসঙ্গে সেদ্ধ করে নিন।

       ২।অন্য একটি পাত্রে তেল গরম করে পাঁচফোড়ন ও শুকনা মরিচের ফোড়ন দিন।

       ৩।এবার সিদ্ধ করা ডাল ও চালতা ঢেলে দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন।

৪। ভর্তা

অনেকে কাঁচা চালতা সেদ্ধ করে ভর্তা খেতে পছন্দ করে।

উপকরণঃ সেদ্ধ চালতা, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা, লবণ।

প্রস্তুত প্রণালীঃ

      ১।সেদ্ধ করা চালতা থেতো করে নিন।

      ২।কাঁচামরিচ, ধনেপাতা ও লবণ দিয়ে মেখে ভর্তা তৈরি করুন।

কিডনি রোগী কি চালতা খেতে পারবে

আপনি যদি কিডনির সমস্যা থাকে তাহলে আপনার চালতা খাওয়া উচিত নয়। চালতাই এমন কিছু উপাদান থাকে যা কিডনি রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, কারণ তাদের কিডনি এমন উপাদান গুলো শরীর থেকে বের করতে পারে না।

ঝুঁকির উপাদান সমূহঃ

১। অক্সালেট

চালতাই উচ্চ পরিমাণে অক্সালেট  থাকে, যা কিডনি রোগীদের কিডনিতে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে এবং কিডনি ফেইলিওর হতে পারে। সুস্থ কিডনি অক্সালেট শরীর থেকে বের করে দিলেও দুর্বল কিডনি তা করতে পারেনা।

২।কারামবক্সিন

কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, চালতায় কারামবক্সিন নামে একটি নিঊরোটক্সিন থাকতে পারে। কিডনি রোগীরা এই বিষ শরীর থেকে বের করতে পারে না, ফলে তা মস্তিষ্কে জমা হয়ে গুরুতর স্নায়বিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।

কিডনি রোগীর চালতা খাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি

  • মাথা ঘোরা ও বিভ্রান্তি
  • খিচুনি
  • অনিয়ন্ত্রিত হেঁচকি
  • শরীর দুর্বলতা
  • কিছু ক্ষেত্রে কোমা বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

আপনার যদি কিডনি রোগ থাকে তাহলে চালতা এবং চালতা রস থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকুন। যেকোনো নতুন খাবার বিশেষ করে ফল খাওয়ার আগে আপনার ডাক্তার বা ডায়েটিশিয়ানের সাথে পরামর্শ করা অতীব জরুরী।

ফ্যাটি লিভার রোগের চিকিৎসায় চালতার ব্যবহার

ফ্যাটি লিভারে চিকিৎসায় চালতার সরাসরি ব্যবহার সংক্রান্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে চালতার কিছু বিশেষ গুণ রয়েছে, যা লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ফ্যাটি লিভারের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

  •  চালতার সম্ভাব্য কার্যকারিতা

চালতার কিছু ঔষধি গুন রয়েছে, যা পরোক্ষভাবে লিভারের উপকারে আসতে পারেঃ

  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্টঃ চালতার প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন থাকে, যা লিভারকেবিষাক্ত পদার্থ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
  • হেপাটোপ্রোটেক্টিভ বৈশিষ্টঃ কিছু কিছু গবেষণায় চালতার নির্যাসে হেপাটোপ্রোটেক্টিভ কার্যক্রম দেখা গেছে।ইঁদুরের উপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, চালতার পাতার নির্যাস লিভারের  ক্ষতি কমাতে কার্যকর।
  • অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরিঃচালতায় থাকা কিছু যৌগ প্রদাহবিরোধী কার্যকারিতা দেখায়,যা লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে সাহায্য করে। 
  • ফাইটোকেমিক্যালঃ চালতায় ফ্ল্যাভোনয়েডস, ট্যানিন,অ্যালকালয়েড ও ট্রাইটারপেনয়েডের মত  বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে, যা লিভারের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাঃ

চালতা লিভারের জন্য উপকারী হলেও, এটি লিভারে সরাসরি চিকিৎসা নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কেবল চালতার উপর নির্ভর করা উচিত নয়। ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলো হলো ঃ-

  • সঠিক খাদ্যাভাসঃ নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা জরুরি;
  • নিয়মিত ব্যায়ামঃ প্রতি সপ্তাহের ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার অ্যারোবিক ব্যায়াম ( হাঁটা, সাঁতার কাটা ইত্যাদি)করা উচিত;
  • ওজন নিয়ন্ত্রণঃ অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা কমানোর চেষ্টা করা জরুরি।
পরামর্শঃ
ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভুগলে অবশ্যই আপনি একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। চালতাকে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার হিসাবে খাদ্য তালিকায় যোগ করতে পারেন, তবে এটিকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ভাবা কখনো যাবেনা।

গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়ার উপকারিতা

আপনি যদি গর্ভবতী হন তাহলে পরিমিত পরিমাণে চালতা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ এবং পুষ্টিকর হতে পারে। তবে যেকোনো সময় নতুন খাবার খাদ্য তালিকায় যোগ করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো। এর সম্ভাব্য কিছু উপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলোঃ-

পুষ্টি উপাদানঃ

  • ভিটামিন সিঃ চালতা ভিটামিন সি-এর একটি ভাল উৎস, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে; 
  • আয়রনঃ চালতা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে, যা গর্ভাবস্থায় একটি সাধারণ সমস্যা;
  • ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসঃ এই খনিজ উপাদান গুলো হাড় ও দাঁ ত মজবুত করতে সহায়তা করে;
  • অ্যান্টি-অলসিডেন্টঃ চালতায় বিভিন্ন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরকে ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। 
হজমের সুবিধাঃ
১।  চালতার আঁশ বা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা, তাই ফাইবার যুক্ত খাবার এক্ষেত্রে খুবই জরুরী।.
২।  চালতার রস ঠান্ডা জনিত ঝড় উপশমে সহায়তা করে।
৩।  বাতের ব্যাথা উপসময়েও একটি সহায়ক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
সাবধানতাঃ
১। চালতা টক জাতীয় ফল, তাই অতিরিক্ত খেলে বুক জ্বালা বা হজমে সমস্যা হতে পারে।
২। রাস্তাঘাটে বা খোলা জায়গায় তৈরি ছালতার আসা বা চাটনি এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ সেগুলো                 অস্বাস্থ্যকর হতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

পরিশেষে বলা যায় যে, গর্ভাবস্থায় চালতা খেতে চাইলে অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং পরিমিত পরিমানে খেতে হবে। তবে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগ থাকলে অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
শেষ কথা ঃ দেশজ ফল হিসাবে চালতার ঔষধি গুনাগুন

দেশজ ফল হিসাবে চালতার ঔষধি গুনাগুন সম্পর্কে উপরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সাধারণত আমরা টক জাতীয় ফল অনেকেই পছন্দ করে থাকি। তবে সে ক্ষেত্রে এই ফলগুলো খাওয়ার পূর্বে আপনাকে এ সম্পর্কে বিস্তারিত ফলের উপাদেন এবং গুণগত মান সম্পর্কে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।

আমি বিশ্বাস করি আপনি আমার এই আর্টিকেলটি বিস্তারিতভাবে পড়েছেন এবং চালতা সম্পর্কে জানতেও পেরেছেন। এই আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনার সামান্যতম উপকার হয় তবে আমি আপনাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ থাকবো। এই বিষয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্যবহুল বিষয় জানতে আমার আর্টিকেলটি নিয়মিত পড়বেন এবং ওয়েবসাইটটি ফলো করবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইয়োলোপাইসনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Sreebas chandra pk.
Sreebas chandra pk.
আমি এখন ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে অধ্যায়নরত এবং লেখালেখি শুরু করেছি।