২০২৬ সালের শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজার সময়

২০২৬ সালের শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজার সময় স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীরা বাগদেবীর আরাধনা করে অঞ্জলি প্রদান করে।পরম ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের সৃষ্টিকারী রুপের নাম ব্রহ্মা আর ব্রহ্মার নারী শক্তির নাম সরস্বতী।

২০২৬-সালের-শ্রী-শ্রী-সরস্বতী-পূজার-সময়-

বাগদেবী সরস্বতী সম্পর্কে পুরানে নানা আকর্ষনীয় গল্প প্রচলিত আছে। সরস্বতী শ্বেত শুভ্র বর্ণা, তার সঙ্গে থাকে রাজহংস। তার এক হাতে বীনা, অন্য হাতে বই। কেন সরস্বতীর গায়ের রং সাদা, কেনই বা তার হাতে বীনা থাকে এবং সরস্বতী পূজা সময়, পূজা পদ্ধতি ও মন্ত্র পাঠ সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে বর্ণনা করা হলোঃ-

পোস্ট সূচিপত্রঃ ২০২৬ সালের শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজার সময়

২০২৬ সালের শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজার সময়

২০২৬ সালের শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজার সময় জানার পূর্বে আমাদের জানতে হবে দেবী সম্পর্কে। আমরা যে সরস্বতী আরাধনা করি তিনি বিদ্যার দেবী। সরস্বতী মূলত বৈদিক দেবী। সরস শব্দের অর্থ হলো জল। অতএব সরস্বতী শব্দের আদি অর্থ হলো জলবতী  অর্থাৎ নদী। সরস্বতী শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থে সরস + বতী আর স্ত্রীলিঙ্গে"ঈ"প্রত্যয় যুক্ত হয়ে সরস্বতী। তিনি বিদ্যাদেবী, জ্ঞানদায়িনী,বীনাপানি,কুলপ্রিয়া,পলাশপ্রিয়া প্রভৃতি নামে পরিচিত।

আরও পড়ুনঃ দেবী সরস্বতীর পিতা-মাতার নাম

সরস্বতীর যেমন নানা রকম মূর্তি আছে, তেমনি অন্যান্য দেব দেবীর ও মূর্তি আছে। তবে সচরাচর তিনি চতুর্ভূজা এবং তার চার হাতে বই, মালা, বীনা এবং জল পাত্র কোথাও বা পাত্র থাকে না বীনাটি দুই হাতে ধরা থাকে। বেদ যেহেতু চারটি ঋকবেদ, সামবেদ, যজুঃবেদ এবং অথর্ববেদ তাই সরস্বতীর চারটি হাতে চার বেদের প্রতীক বলে ধরে নেওয়া হয়। তবে শাস্ত্রমতে চতুর্ভুজের অন্য অর্থ আছে। নানা মনির নানা মত। একটি মতে, বই হল গদ্যের প্রতীক,,মালা কবিতার, বীনা সঙ্গীতের, আর জলপাত্র পবিত্র চিন্তার।

সরস্বতী পূজার তারিখ, সময় ও পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র

সরস্বতী পূজাঃ শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ সাল।

 বাংলাদেশঃ  শুক্রবার,  ৯ মাঘ , ১৪৩২ সাল। 

পঞ্চমী তিথি শুরুঃ রাত ২ঃ ২৮ মিনিট (২৩ জানুয়ারি)।

পঞ্চমী তিথি শেষঃ রাত ১ঃ৪৬ মিনিট (২৪ জানুয়ারি)।

স্থিতিকাল ঃ ঘন্টা  মিনিট।

পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র (৩ বার মন্ত্র বলুন)

মন্ত্র-১

ওঁ জয় জয় দেবী চরাচর সারে।

কুচ যুগশোভিত মুক্তাহারে।

বীনা রঞ্জিত পুস্তক হস্তে।

ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্ততে।।

ব্যাখ্যাঃ এই মন্ত্রের দেবীকে মহাবিশ্বের সার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি বীনা ও পুস্তক ধারণ করে জ্ঞান ও শিল্পের প্রতীক হয়ে আছেন।

মন্ত্র-২

নমঃ ভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ।

বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যা-স্থানেভ্য এব চ।।

এস স-চন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বতীয় নমঃ।।

ব্যাখ্যাঃ এই মন্ত্রে ভদ্রকালী এবং সরস্বতীর উদ্দেশ্যে প্রণাম জানানো হয়, একই সঙ্গে বেদ ও অন্যান্য পবিত্র জ্ঞানশাস্ত্রের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পুষ্পাঞ্জলি নিবেদনের মাধ্যমে ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়।  

২০২৬-সালের-শ্রী-শ্রী-সরস্বতী-পূজার-সময়-

সরস্বতীর প্রণাম মন্ত্রঃ

মন্ত্র-১

নমো সরস্বতী মহাভাগে।

বিদ্যে কমললোচনে।

বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী।

বিদ্বানংদেহি নমোহস্ততে।।

ব্যাখ্যাঃ এই মন্ত্রে দেবী সরস্বতীর বিভিন্ন রূপের গুণগান করা হয়েছে এবং ভক্ত তার কাছে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা প্রার্থনা করে।

মন্ত্র-২

ওঁ জয় জয় দেবী চরাচর সারে।

কুচ যুগশোভিত মুক্তাহারে।

বীনা রঞ্জিত পুস্তক হস্তে।

ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্ততে।।

ব্যাখ্যাঃ এই মন্ত্রটি পুনরুক্তি করে দেবীর মহিমা, তার সৌন্দর্য এবং জ্ঞান ও শিল্পের প্রতীক হিসেবে তার ভূমিকা বর্ণনা করে। এটি পূজার শেষে প্রণাম ও আশীর্বাদ প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত হয়।

শ্রী শ্রী সরস্বতী দেবীর কাহিনী

সরস্বতীকে প্রথমে আমরা নদীর রূপে, পরে বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবীরুপে কল্পনা করে থাকি। তিনি সংগীতেরও দেবী।বেদ, উপনিষদ,পুরাণ,তন্ত্র, সংহিতা, রামায়ণ, মহাভারত, সাহিত্য এবং ইতিহাসের দেবী সরস্বতীর বিভিন্ন কাহিনী এবং বিভিন্ন রূপের কথা জানতে পারি।পুরাণ থেকে জানা যায়, সরস্বতী নদীর মহিমার সঙ্গে নারী জাতির একটি সুচিতার সম্পর্ক ছিল। স্বর্গের সুন্দরী, অপ্সরা, নর্তকীদের মধ্যে সরস্বতী প্রভাব ছিল যথেষ্ট।

বিশ্বামিত্র মনে ছিলেন রাজর্ষি। তিনি ব্রহ্মর্ষি হতে না পারায় মহামনি বশিষ্ঠের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল না। যেহেতু বশির্ষ্ঠি মুনি ছিলেন ব্রহ্মষি। অনেক চেষ্টা করেও ব্রহ্মর্ষি হতে না পারায় বশিষ্ঠের প্রতি বিশ্বামিত্রে এক তীব্র ক্ষোভ তাকে একেবারে ক্রোধে উন্মাদ করে তুলল। তিনি এই সময় সরস্বতী নদীকে আদেশ করলেন,ব্রহ্মষি বশির্ষ্ঠি মুনির আশ্রমকে ভাসিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিতে। কিন্তু সরস্বতী নদী তাতে কোনমতে সম্মত হলে না। তখন বিশ্বামিত্রের অভিশাপে সরস্বতী রক্ত নদীতে পরিণত হলেন। সরস্বতীর এই ভয়াবহ রুপ মহাদেব মেনে নিতে পারলেন না। তার আশীর্বাদে সরস্বতী পূর্ব অবস্থায ফিরে পেলেন। শুধু তাই নয়, মহাদেবের বরেই তিনি নারী শ্রেষ্ঠা রূপে সম্মানিত হলেন।

শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজার পদ্ধতি

২০২৬ সালের শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজার সময় বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর পূজা মূলত মাঘ মাসের শুক্ল পঞ্চমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। এই পূজা আপনি নিজেই বাড়িতে করতে পারবেন। সরস্বতী পূজার জন্য একটি বিস্তারিত পদ্ধতি নিচে দেওয়া হল:-

পূজার প্রয়োজনীয় উপকরণঃ

১। দেবী সরস্বতীর প্রতিমা বা ছবি

২। সরস্বতীর বাহন রাজহংস ও তার সহযোগী লক্ষ্মী-নারায়ণের প্রতিমা (বাধ্যতামূলক নয়)

৩। সাদা কাপড়, হলুদ ও কুমকুম

৪। একটি জলপূর্ণ ঘট ও ৫ অথবা ৭ টি আম পাতা বিশিষ্ট (সারা)

৫। খাগের কলম, দোয়াত, বই-খাতা অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র (যেমন; বীনা)

৬। সাদা ও হলুদ ফুল,পলাশ ফুল, আমের মুকু্‌ল,যবের শিষ, বেলপাতা,দুর্বা

৭। ফল(যেমনঃ কুল, আপেল, শসা, কলা এবং আরো অন্যান্য ফল), মিষ্টি ও নকুলদানা 

৮। আবির-অভ্র, ধুপ, প্রদীপ ও ঘি

৯। ভোগের জন্য খিচুড়ি, লুচি, ছোলার ডাল ও পায়েস ইত্যাদি।

আরও পড়ুনঃ দেবী সরস্বতীর পূজার গুরুত্ব

পূজার পদ্ধতিঃ

১। স্নান ও উপবাসঃ পুজার দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিম ও হলুদ বাটা মেখে স্নান করতে হবে। তারপর শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে পূজার জন্য উপবাস করতে হবে।

২। আসন গ্রহণঃ পূজার স্থানে একটি শুদ্ধ আসনে পূর্ব অথবা উত্তর দিকে মুখ করে বসতে হবে।

৩। পূজার স্থান সাজানোঃ একটি পিঁড়ির উপর সাদা কাপড় বিছিয়ে তাতে সরস্বতী প্রতিমা বা ছবি স্থাপন করুন। পাশে জলপূর্ণ ঘট, আম পাতা (সারা)ও অন্যান্য উপকরণ সাজিয়ে রাখুন।

৪। আজমনঃ ডান হাতে জল নিয়ে তিনবার  "ওঁ বিষ্ণু" মন্ত্র উচ্চারণ করে পান করুন।

৫। সংকল্পঃ দেবী কৃপা লাভের জন্য সংকল্প করুন এবং পূজা শুরু করুন।

৬। দেবীর মন্ত্র জপঃ সরস্বতী বন্দনা বাস্তব পাঠ করুন।

সরস্বতীর স্তরঃ

শ্বেতপদ্মাসনা দেবী শ্বেত পুষ্পোপশোভিতা।

শ্বেতাম্ভরধরা নিত্যা শ্বেতাগন্ধানুলেপনা।।

শ্বেতাক্ষসূত্রহস্তা চ শ্বেতচন্দনচর্চ্চিতা।

শ্বেতাবীণাধরা শুভ্রা শ্বেতালষ্কার বিভূষিতা

বন্দিতা সিদ্ধগন্ধব্বৈচির্চতা দেবদানবৈঃ।

পূঝিতা মুনিভিঃ সবৈর্বঋষিভিঃ ম্ভূয়তে সদা।।

স্তোত্রেণানেন তাং দেবীং জগদ্ধাত্রীং সরস্বতীম।

যে স্মরতি ত্রিসন্ধায়ং সবর্বাং বিদ্যাং লভন্তি তে।।

৭। পুষ্পাঞ্জলি প্রদানঃ হলুদ ফুল দিয়ে অঞ্জলি দিন এবং মন্ত্র পাঠ করুন।

পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্রঃ

ওঁ জয় জয় দেবী চরাচর সারে।

কুচ যুগশোভিত মুক্তাহারে।

বীনা রঞ্জিত পুস্তক হস্তে।

ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্ততে।।

৮। প্রণাম মন্ত্রঃ দেবীকে প্রণাম জানান এবং মন্ত্র পাঠ করুন।

প্রণাম মন্ত্রঃ

নমো সরস্বতী মহাভাগে।

বিদ্যে কমললোচনে।

বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী।

বিদ্বানংদেহি নমোহস্ততে।।

৯। ভোগ নিবেদনঃ দেবীকে ফল, মিষ্টি এবং অন্যান্য ভোগের সামগ্রী অর্পণ করুন।

১০। আরতি ও প্রার্থনাঃ দেবীর আরতি করুন এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার জন্য প্রার্থনা করুন।

১১। সরস্বতীর নাম লেখাঃ পূজার পর দিন সকালে বিল্ব পত্রে দুধ ও খাগের কলম দিয়ে দেবির নাম লিখে পড়াশোনা শুরু করার রীতি রয়েছে।

১২। দধি পরমাঃ পূজা পরে চিঁড়ে ও দই মিশে -দধিকর্মা তৈরি করে নিবেদন করা হয়।

শ্রীশ্রী সরস্বতী দেবীর ১০৮ টি নাম

দেবী সরস্বতীর ১০৮ টি নাম নিচে দেওয়া হল, যা "সরস্বতী অষ্টোত্তর শতনামাবলী" থেকে সংকলিত ঃ-

১। সরস্বতীঃ যিনি জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী।

২। মহাভদ্রাঃ যিনি অত্যন্ত কল্যাণময়ী।

৩। মহামায়াঃ যিনি পরম মায়াময়ী।

৪। বর প্রদাঃ যিনি বরদান করেন।

৫। শ্রীপদাঃ যিনি সমৃদ্ধি দান করেন।

৬। পদ্মনিলয়াঃ যিনি পদ্মে নিবাস করেন।

৭। পদ্মাক্ষীঃ যাঁর চোখ পদ্মের মতো।

৮। পদ্মবক্ত্রিকাঃ যাঁর মুখ পদ্মের মতো।  

৯। শিবানুজাঃ যিনি শিবের অনুজা।

১০। পুস্তকধৃতঃ যিনি হাতে পুস্তক ধারণ করেন।

১১। জ্ঞানমুদ্রাঃ যিনি জ্ঞানের প্রতীক।

১২। রমাঃ যিনি সুন্দর এবং আনন্দময়ী।

১৩। পরাঃ যিনি পরমাত্মা।

১৪। কাম রূপিণীঃ যিনি ইচ্ছানুসারে রূপ ধারণ করে।

১৫। মহাবিদ্যাঃ যিনি মহাজ্ঞানের দেবী।

১৬। মহাপাতক নাশিনীঃ যিনি সমস্ত পাপ নাশ করেন।

১৭। মহাশ্রয়াঃ যিনি সবার আশ্রয়স্থল।

১৮। মালিনীঃ যিনি মালা পরিহিতা।

১৯। মহাভোগাঃ যিনি মহান ভোগ বা ঐশ্বর্য প্রদান করেন।

২০। মহাভুজাঃ যার অনেক বাহু।

২১। মহাভাগাঃ যিনি অত্যন্ত সৌভাগ্যবতী।

২২। মহোৎসাহাঃ যিনি মহা উৎসাহের উৎস।

২৩। বিদ্যাঙ্গাঃ যার অঙ্গ বিদ্যা।

২৪। সুরবন্দিতাঃ যিনি দেবোগণের দ্বারা বন্দিত।

২৫। মহাকালীঃ যিনি মহাকালীর রূপ।

২৬। মহাপাশাঃ যিনি মহাকুশলা।

২৭। মহাকারাঃ যিনি বিরাট দেহের অধিকারিনী।

২৮। মহাঙকুশাঃ যিনি মহাজাগরণের প্রতীক।

২৯। সীতাঃ যিনি সীতা রূপিণী।

৩০। বিমলাঃ যিনি নির্মল।

৩১।বিশ্বাঃ যিনি সমগ্র বিশ্ব।

৩২। বিদ্যুন্নালাঃযাঁর কণ্ঠহারে বিদ্যুতের মালা।

৩৩।বৈষ্ণবীঃ যিনি বিষ্ণুশক্তির অংশ।

৩৪। চন্দ্রিকাঃযিনি চন্দের মতো দীপ্তিময়ী।

৩৫।চন্দ্রলেখা-বিভূষিতাঃ যিনি অর্ধচন্দ্র দ্বারা শোভিত।

৩৬। মহাফলাঃ যিনি মহান ফল প্রদান করেন।

৩৭। সাবিত্রীঃ যিনি সাবিত্রী মন্ত্রের দেবী।

৩৮। সুরসাঃ যিনি মধুর ভাষিণী।

৩৯। দেবীঃ যিনি স্বয়ং দেবী।

৪০। দিব্যালষ্কারভূষিতাঃ যিনি দিব্য অলংকারে সজ্জিত।

৪১। বাগদেবীঃ যিনি বাক্যের দেবী।

৪২। বসুধাঃ যিনি পৃথিবীকে ধারণ করেন।

৪৩। তীব্রাঃ যিনি প্রবল শক্তিধারিণী।

৪৪। ভোগদাঃ যিনি ভোগ বা আনন্দ প্রদান করেন।

৪৫। ভারতীঃ যিনি ভারত ভূমিকে রক্ষা করেন।

৪৬। ব্রহ্মীঃ যিনি ব্রহ্মের শক্তি।

৪৭। জ্ঞানরূপাঃ যিনি জ্ঞানের প্রতিমূর্তি।

৪৮। বাগ্বিগ্বধিনীঃ  যিনি বাক্যকে বৃদ্ধি করেন।

৪৯। শান্তাঃ যিনি শান্ত স্বভাবের।

৫০। শান্তাভাসাঃ যিনি শান্তি প্রদান করেন।

৫১। ভাস্করীঃ যিনি দীপ্তিমান।

৫২। চন্দ্রবদনাঃ যার মুখ চন্দ্রের মত।

৫৩। হিরণ্যবর্ণাঃ যাঁর বর্ণ সোনালী।

৫৪। হেমবর্ণাঃ যার গাত্রবর্ণ সোনার মত।

৫৫। রত্নধাত্রীঃ যিনি রত্ন ধারন করেন।

৫৬। রত্নগর্ভাঃ যিনি রত্নস্বরূপ।

৫৭। সুগন্ধাঃ যিনি সুগন্ধময়ী।

৫৮। মাল্যধারিনীঃ যিনি মালা ধারণ করেন।

৫৯। মাহিষীঃযিনি মহিষাশুর সংহারিণী।

৬০। মানিনীঃ যিনি সকলের পূজনীয়।

৬১।মানদাঃ যিনি সম্নান দান করেন।

৬২। শঙ্খিনিঃ যিনি শঙ্খ ধারণ করেন।

৬৩।চক্রিণীঃ যিনি চক্র ধারণ করেন।

৬৪।মধুমতীঃ যিনি মধুর।

৬৫।মধুস্মিতাঃ যাঁর হাসি মধুর।

৬৬। সুকেশিনীঃযাঁর চুল সুন্দর।

৬৭। ললিতপ্রিয়াঃ যিনি ললিতকলার প্রিয়।

৬৮। কামাখ্যাঃ যিনি কামনার দেবী রূপে প্রসিদ্ধ।

৬৯। কামরূপাঃ যিনি ইচ্ছা অনুযায়ী রূপ ধারণ করেন।

৭০। কামিনীঃ যিনি মনোমুগ্ধকর।

৭১। কামদাত্রীঃ যিনি কামনা পূরণ করেন।

৭২। কামপ্রদাঃযিনি কামনা প্রদান করেন।

৭৩। সরোজাঃ যিনি পদ্ম থেকে জন্মগ্রহণ করেছেন।

৭৪। বরোজাঃযিনি শ্রেষ্ঠ।

৭৫। সুজাঃ যিনি সুন্দর এর প্রতীক।

৭৬। বরদাঃ যিনি বরদান করেন।

৭৭। সুবিকাঃ যিনি সুন্দর।

৭৮। বিভূষাঃ যিনি অলংকারে ভূষিত।

৭৯। শুভাঃ যিনি শুভকারী।

৮০। সুস্মিতাঃ যার হাসি মনোরম।

৮১। সুরুপাঃ যিনি সুন্দর রূপের অধিকারিনী।

৮২। সু শিলাঃ যিনি সুশীলা।

৮৩। সুবর্ণাঃ যিনি সুন্দর স্বর্ণের মত।

৮৪। মনোরমাঃ যিনি মনকে আনন্দ দেন।

৮৫ সুপ্রভাঃ যিনি সুন্দর প্রভা বা দীপ্তি ছড়ান।

৮৬। মহাপ্রভাঃ যিনি মহান প্রভা ছড়ান।

৮৭। সুধাময়ীঃ যিনি অমৃতময়ী।

৮৮। সুরপ্রিয়াঃযিনি দেবতাদের প্রিয়।

৮৯। সীতাঃ যিনি সীতা দেবী।

৯০। বিমলাঃ যিনি  নির্মল।

৯১। বিশ্বাঃযিনি বিশ্বব্যাপী।

৯২। বিদ্যুৎপ্রভাঃযাঁর জ্যোতি বিদ্যুতের মতো।

৯৩। বৈষ্ণবীঃ যিনি বিষ্ণুর শক্তি।

৯৪।চন্ডিকাঃ যিনি চন্ডিকার রুপ।

৯৫। চন্দ্রিকাঃ যিনি চন্দ্রের মতো দীপ্তিমান।

৯৬।চন্ডলেখাঃযিনি চন্ড ও লেখনী দ্বারা সজ্জিত।

৯৭।চন্দ্রাননাঃ যাঁর মুখ চন্দ্রের মতো।

৯৮। হিরণ্যাঃ যিনি সোনালী।

৯৯। হৈমবতীঃ যিনি হিমালয়ের কন্যা।

১০০। বিশ্বাধিকাঃযিনি বিশ্বকে অতিক্রম করেন।

১০১। রত্নদীপাঃ যিনি রত্নের মত উজ্জ্বল।

১০২। রত্নপ্রভাঃ যার প্রভা রত্নের মতো।

১০৩। সুরেশ্বরীঃ যিনি সুরগনের ঈশ্বরী।

১০৪। সুমঙ্গলাঃ যিনি অত্যন্ত মঙ্গলময়ী।

১০৫। সিতোদ্ভবাঃ যিনি সুন্দরভাবে প্রকাশিত।

১০৬। শ্বেতপদ্মাঃ যিনি শ্বেতপদ্মের উপর উপবিষ্ট।

১০৭। শ্বেতবস্ত্রধরাঃ যিনি শ্বেতবস্ত্র পরিহিতা।

১০৮। মহাজ্ঞানদায়িনীঃ যিনি মহাজ্ঞান প্রদান করেন। 

দেবী সরস্বতীর বাহন কেন হংস

শুক্ল বর্ণ মানে সাদা হল ভালো গুণের প্রতীক। পবিত্র গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের শ্লোকে আছে,"তত্র সত্ত্বং নির্মলাত্বাৎ" অর্থাৎ সত্ত্ব, তমো ও রজোগুণের মধ্যে সত্ত্ব গুন অতি পবিত্র গুণ। স্বচ্ছতার প্রতীক, নির্মলতার প্রতীক। আবার এই অধ্যায়ের ১৭ নাম্বার শ্লোকে বলা হয়েছে"সত্ত্বাৎ সংজায়তে জ্ঞানং" অর্থাৎ  সত্ত্বগুণে জ্ঞান লাভ হয়। তাই জ্ঞানময়ী সর্বশুল্কা দেবী শ্রী শ্রী সরস্বতী জ্ঞানে গুণান্বিত বলে তার গায়ের রং শুক্লবর্ণ অর্থাৎ দোষ হীনা। 

২০২৬-সালের-শ্রী-শ্রী-সরস্বতী-পূজার-সময়

পবিত্রতার মূর্তি আর জ্ঞান দান করেন বলে তিনি জ্ঞানদায়েনী। দেবী সরস্বতীর বাহন হংস কেন? জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর বাহন রাজহংস। কারণ হাঁস অসারকে ফেলে সার গ্রহণ করে। দুধ ও জলের মিশ্রণ থেকে জল ফেলে শুধু দুধটুকু গ্রহণ করে কিংবা কাদায় মিশ্রিত স্থান থেকে তার খাদ্য খুঁজে নিতে পারে। মায়ের সঙ্গে পূজিত হয়ে শিক্ষা দিচ্ছে,সবাই যেন অসার,ভেজাল,অকল্যাণকরকে পরিহার করে নিত্য পরমাত্মাকে গ্রহণ করে এবং তার পারমার্থিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

দেবী সরস্বতীর হাতে বীনা ও বই কেন

দেবী সরস্বতীর হাতে বিনা থাকে। সেই কারণে তার অপর এক নাম বীণাপাণি, কারণ পাণি শব্দের অর্থ হাত।।বীনার ঝংকারে উঠে আসে ধ্বনি বা না্দ। বিদ্যার দেবী সরস্বতীর ভক্তরা সাধনা দ্বারা সিদ্ধি লাভ করলে বীনার ধ্বনি শুনতে পায়।বীনার সুর অত্যন্ত মধুর। তাই বিদ্যার্থীদেরও মুখ নিঃসৃত বাক্য ও যেন মধুর ও সংগীতময় হয়। হিন্দু ধর্ম হলো নাচ, গান সমৃদ্ধ শিল্পকলার ধর্ম, যা সামাজিক বাস্তবতাকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করে। সেই কারণে মায়ের হাতে বীনা।তাই দেবী সরস্বতীর আরেক নাম "বীনাপাণি"

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য জ্ঞান অন্বেষণ। আর জ্ঞান ও বিদ্যা অন্বেষণের জন্য জ্ঞানের ভান্ডার "বেদ" তার হাতে রয়েছে। সেই বেদই বিদ্যা। তিনি আমাদের আশীর্বাদ করছেন আমাদের জীবনকে শুভ্র এবং পবিত্র করতে।

শেষ কথাঃ ২০২৬ সালের শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজার সময়

২০২৬ সালের শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজার সময় ও অন্যান্য বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে উপরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সরস্বতী পূজা করলে ছাত্রদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং পড়াশোনার উন্নতি হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।এই পূজা করলে শিক্ষার্থীদের বুদ্ধি বাড়ে,পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং মনে রাখার ক্ষমতা উন্নত হয়।তাই পরিশেষে আমি বলতে চাই যে উপরে লেখাটি পড়লে ছাত্র-ছাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইয়োলোপাইসনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Sreebas chandra pk.
Sreebas chandra pk.
আমি এখন ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে অধ্যায়নরত এবং লেখালেখি শুরু করেছি।